সুন্দরবনের কটকা সমুদ্র সৈকত

সুন্দরবনের কটকা সমুদ্র সৈকত

Khulna Bagerhat

0 Reviews

সুন্দরবনের দক্ষিণ পূর্বকোণে অবস্থিত কটকা। সুন্দর বনের আকর্ষনীয় স্থান গুলোর মধ্যে অন্যতম এ কটকা। মংলাবন্দর থেকে প্রায় ৯০কিঃমিঃ দূরে অবস্থিত । এখানে বন বিভাগের একটি রেস্ট হাউস আছে। সামনেই দেখা যায় সাগরের অথৈ জল রাশির বিশাল বিশাল ঢেউ। এর আশ পাশে রয়েছে অসংখ্য ছোট বড় খাল। এসব খালে নৌকা নিয়ে ভ্রমন খুবই মজাদার। প্রকৃতির রূপ ও বিচিত্র রহস্যময় অভিজ্ঞতা অর্জনের এক অপুর্ব সুযোগ। খালের ধারে দেখা যায় দলে দলে চিত্রল হরিণ চরে বেড়াতে। এছাড়া বানর, উদবিড়াল ও বন মোরগ দেখা যায়। মাঝে মাঝে বাঘের গর্জনও শোনা যায়। অন্ধকার রাতে লক্ষ কোটি জোনাকীর আলোর মেলা মুগ্ধ ও বিমোহিত করে তোলে। সব মিলিয়ে কটকা একটি সৌন্দর্য উপভোগ করার স্থান।

Instruction

কিভাবে যাওয়া যায় ঃ খুলনা লঞ্চঘাট খেকে লঞ্চযোগে কটকা যাওয়া যাবে। রাতে ও সকালে লঞ্চ রয়েছে।  কটকায় বেড়াতে যাবার প্রধান ও একমাত্র মাধ্যম হলো লঞ্চ। আর পর্যটকদের নিয়ে এই লঞ্চ নোঙ্গর করা হয় কটকা খালে। রাজধানী ঢাকার গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে খুলনা, বাগেরহাটগামী বাস কিংবা কমলাপুর ট্রেনে করে খুলনা আসতে হবে প্রথমে।

ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে করে বাগেরহাটে পৌছাতে পারবেন। ঢাকা থেকে বাগেরহাটে চলাচলকারী বাসগুলোর মধ্যে রয়েছে – মেঘনা পরিবহন ( ০১৭১৭১৭৩৮৮৫৫৩ ), পর্যটক পরিবহন ( ০১৭১১১৩১০৭৮ ) যা সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যায়। এছাড়া ঢাকার গাবতলি বাস টার্মিনাল থেকে ছাড়ে – সাকুরা পরিবহন ( ০১৭১১০১০৪৫০ ), সোহাগ পরিবহন ( ০১৭১৮৬৭৯৩০২ ) ।

খুলনা থেকে রুপসা বা বাগেরহাটের মংলা বন্দর থেকে লঞ্চ পাবেন। এছাড়া বাগেরহাটের মংলা, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা থেকে পাবেন সুন্দরবনে যাওয়ার নৌযান পাওয়া যায়।


কোথায় থাকবেন ঃ সুন্দরবনের টাইগার পয়েন্টের কচিখালী, হিরণপয়েন্টের নীলকমল এবং কাটকায় বন বিভাগের রেস্টহাউজে থাকার জন্য ব্যবস্থা রয়েছে। নীলকমলে থাকতে চাইলে দেশি পর্যটকদের প্রতি কক্ষের জন্য তিন হাজার টাকা লাগবে আর বিদেশিদের জন্য পাঁচ হাজার টাকা। কচিখালী প্রতি কক্ষের জন্য লাগিবে তিন হাজার টাকা আর বিদেশিদের জন্য লাগবে পাঁচ হাজার টাকা। কটকাতে প্রতি কক্ষ নিতে দুই হাজার টাকা লাগবে এবং বিদেশিদের জন্য রুম প্রতি পাঁচ হাজার টাকা লাগবে।

বাগেরহাটে থাকার জন্য তেমন আবাসিক হোটেল ব্যবস্থা নেই। রেল রোডে মমতাজ হোটেলে সুযোগ সুবিধা কম থাকলেও সেবার মান তুলনামূলক ভাল, তবে খরচ একটু বেশি। এছাড়া মমতাজ হোটেলের আশেপাশে অন্য হোটেলগুলোতেঅ থাকার জন্য খোঁজ নিতে পারেন।মংলায় থাকার জন্যে পর্যটন কর্পোরেশনের হোটেল আছে। পশুর বন্দরে পর্যটকদের থাকার জন্য কিছু সাধারণ মানের হোটেল আছে। সাতক্ষীরা শহরে থাকতে চাইলে এখানে কিছু সাধারণ মানের হোটেল পাবেন। শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জে এনজিও সুশীলনের রেস্টহাউস ও ডরমেটরিতে রাত্রি যাপনের ব্যবস্থা রয়েছে

খুলনা নগরীতে বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেলের মধ্যে হোটেল রয়েল, ক্যাসেল সালাম, হোটেল টাইগার গার্ডেন, হোটেল ওয়েস্ট ইন্, হোটেল সিটি ইন, হোটেল মিলিনিয়াম ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।